Wednesday, 5 August 2020

||সম্প্রদান||

(Background এ হাল্কা বিয়ে বাড়ির, শানাই বাজছে)

- আরে কিরে? ধ্যাৎ এতো টেনশন করিসনাতো। 
- এই শোন, তোকে শেষ অবধি বিয়ে করছি বলে, ভাবিসনা তুই আমার মাথা কিনে নিয়েছিস।
- আরে কি মুশকিল। আ- আমি কি করলাম? আমি তো তোর জন্য সেই তখন থেকে প্রবলেম সল্ভ করার চেষ্টা করছি। তোর জন্য আমার এক প্যাকেট...  ইয়ে মানে.. 
- তুই আবার সিগারেট খাচ্ছিস? সৌভিক তুই কি চাস বলতো? 
- আরে, আবার খচে যাচ্ছে! মমমমমমম...  এই শোননা... 
-ভাল লাগছে না বলে দিলাম সৌভিক! 
- তুই আমায় সৌ না বলে পুরো নাম ধরে ডাকলেই না আমার পেটটা কিরকম গুরগুর করে। কিরে... পিউরে.... ইতনা, সান্নাটা কিউরে?
- তুই আমায় পিউ বলে ডাকবিনা।
- হ্যাঁ... আর ঘন্টা খানেক পর থেকে "ওগো শুনছো... " বলে ডাকবো, আমি তো ঠিক করেই নিয়েছি।
- তোর এই ক্যাজুয়াল কথাবার্তা গুলো জাস্ট আমার পোষাচ্ছেনা। 
- আচ্ছা, লেট মি বি সিরিয়াস... পিয়ালী একটা কথা বল...  আমি কি করতাম বল। এই ছোটো ব্যাপার গুলো নিয়ে ডিসকাস করলে আরো অশান্তি বাড়তো। তুই তো আমার মাকে জানিস। একটু Orthodox। তাছাড়া আমরা তো এখানেও থাকব না বল। বেশি ঝামেলা হলে তোর সাথে আমার বিয়ে টাই ভেঙে যেতো। 
- গেলে যেতো। চাই না আমার অমন বর যে নিজের মায়ের কথায় ওঠে আর বসে। 
(দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে, হাল ছেড়ে দিয়ে) 

[পিয়ালীর মামা সৌভিকের ঘরের বাইরে থেকে দরজায় দুবার নক করে জিজ্ঞেস করলো , সৌভিক, এসো...এবার নীচে নামতে হবে। আমি বাইরে আছি। ]
- যাকগে। ছাড়। ফোনটা রাখছি এবার। বাইরে বোধহয় তোর মামা এসছেন। মনে হচ্ছে, পুরুত ডাকছে আমাকে। তুই রেডি হ  তাড়াতাড়ি। 
- ওয়াটেভার। আই অ্যাম নট সিওর।
- ঠিকাছে...দেখে নে সেটা। 

পিয়ালী-সৌভিকের বারো বছরের সম্পর্ক; আজ শুভ পরিনয়। বিয়ের দিনে পিয়ালীর বিধবা মা'য়ের উপস্থিতি নিয়ে সৌভিকের বাড়িতে গত একমাস ধরে রীতিমতো কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ চলছে।  মা আর প্রেমিকার, থুড়ি হবু বৌ এর বাকযুদ্ধের মাঝে সৌভিকের ক্রমশ বাকরূদ্ধ হওয়ার পরিস্থিতি। অন্যদিকে পিয়ালীর কড়া নির্দেশ , যদি মা ঘুণাক্ষরেও এসব জেনেছেন, তাহলে ঐ মুহূর্তেই বিয়ে ক্যান্সেল! সৌভিক বেচারা এই টানাপোড়েনের হেঁচকি তুলতে তুলতে অতিষ্ঠ। পিয়ালীর ফোনটা রেখেই, সৌভিক একটা ফোন করলো। 
- সব ঠিকাছে তো? কিচ্ছু যেন এদিক ওদিক না হয়, কেস খেয়ে যাবো মাইরি।
দুটান দিয়েই, সৌভিক, সিগারেট টা শেষ হয়ে যাওয়া চায়ের কাপে মুচরে গুঁজে, পিয়ালীর মামার সাথে নীচে বিয়ের আসরে চলে গেলো। 

পুরুতমশাই অনেক অঙ-বঙ-চঙ বলে চলেছেন ঠিকই, কিন্তু সৌভিকের মাথায় একটাই মন্ত্র চলছে, পিউ প্লিজ এই যাত্রায় আমায় বাঁচিয়ে দে! 
- এবার মেয়েকে নিয়ে আসুন। সাতপাকে ঘুরে, শুভ দৃষ্টি হবে। তার পর মালা বদল। তারপর সম্প্রদান। সবশেষে সিঁদুর দান। 

পুরুত ঠাকুরের কথা শুনেই তো সৌভিকের পিলে চমকে উঠলো। মানে প্রথমে পিয়ালীর রগরগে চোখ, তারপর ভগবান ই জানেন আজ ভাগ্যে কি লেখা আছে! উলুধ্বনির সাথে পিয়ালী কাঠের পিঁড়িতে চ'ড়ে এল। কোথায় রগরগে চোখ!  এতো যেন স্বর্গের অপ্সরী। সৌভিক পিয়ালীকে এই বৌ-বেশে দেখে একেবারে মোহিত হয়ে গেলো। সারাক্ষণ তো জিন্স টপে দেখে, তার উপর, পিয়ালীর মেজাজ এক্কেবারে সপ্তমে থাকে। বন্ধু বান্ধবদের হৈহৈ-হট্টগোলের মাঝে মালা বদল টাও হয়ে গেলো। পুরুতের নির্দেশ মতো ছাদনাতলায় পিয়ালী সৌভিকের বাঁদিকে বসল। বসেই প্রথম প্রশ্ন, (ফিসফিস করে) "did you talk to your parents? "
সৌভিকের মাথায় বাজ। আস্তে করে জবাব দিলো, "এখন বিয়েটাতে মন দে প্লিজ। আমি কিছু একটা ব্যবস্থা করছি।"
- what do you mean by... 
- আ-আ-স্তে-এ
- what do you mean by একটা ব্যবস্থা করছি? মা কোথায়? কেন দেখতে পাচ্ছি না? 
- আরে (short word) . . . ঊফফ... 
(পিছন থেকে)
বিয়ের সময়টা এত চঞ্চল হতে নেই মা। এখন তো মন দিয়ে বিয়েটা কর, সারাজীবন পড়ে আছে ওর উপর ছড়ি ঘোরানোর... 
-- মা-আ-আ.... তুমিইইইই... 
- পাগলী, তোর বিয়ে, হাতে মেহেন্দী পড়েছি, আর আমিই থাকবোনা, তা কি হয়? নেহ, সৌভিক সড়ে বসতো, আমায় বসার একটু জায়গা দে... ঠাকুরমশাই, এবার সম্প্রদান তো? কৈ শুরু করুন, আমি সম্প্রদান করবো... 
- মা-আ-আ-, are you serious? তুমি যে বলেছিলে ছোটো মামা কর.... 
- (সৌভিক) তুই না just backdated! কেমন গুগলী দিলাম বল! ক্রেডিট ফেডিট কিছুই তো দিচ্ছিস না! তুই তো খালি সিঁদুর দানের সময় কাকিমার presence টা চেয়েছিলি। তোর জন্য আমার কিসব দোষ কাটাতে মা'র গুরুজির জ্বালায় last 2 weeks constant নিরামিষ খেতে হয়েছে। তবে গিয়ে  approval পেয়েছি। বিয়ের পর কবজি ডুবিয়ে বিরিয়ানি খাওয়াবি.... 
- সৌভিক i just love you sss.... 
- আরে  আরে, আস্তে বলললল... 
- না মানে, তোকে পারলে এখনি একটা চু.... 
- ব্যস ব্যস ব্যস! আর না মা আমার.... 
- হিহিহিহি (পিয়ালীর হাসি) 

No comments:

Post a Comment