বৃষ্টি-ভেজা কাঁচ, না আমার চোখ, কোনটা আমার দৃষ্টি ঝাপসা করছিল আমি ঠিক জানি না; শেষ বারের জন্য আমি আর একবার ফিরে তাকালাম। বুকের মধ্যে তখনও অনেকটা আশা জমাট বেঁধে আছে, আবেগ আর তার প্রত্যাশা তখনও কিছুটা বেঁচে ছিল, যদি আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। 'সব আগের মতো' হয়ে যাওয়ার লোভটা কিছুতেই সম্ভরণ করতে পারছিলাম না।
ইতিমধ্যেই ও স্টেশন চত্বর ছেড়ে চলে গেছে। আমি আবার পিছনে ফিরে তাকালাম -- সম্পর্কের তলানিটুকু কুড়োতে, যদি কখনও হিসেব মেলাতে প্রয়োজন হয়; মনখারাপের উত্তাল ঢেউ মনের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছিল, গলার ভীতরটা আরও শুকিয়ে আসছিল, সর্বস্ব হারাবার কষ্ট আমার দু চোখ বারবার ভড়িয়ে তুলছিল। তখন আমার এক মাত্র মুহূর্তের সঙ্গী ---- শুধুমাত্র, আমার দীর্ঘ নিঃশ্বাস।
আমার কাঁধে মাথা এলিয়ে টিটো তখনও ঘুমে আচ্ছন্ন। লাগেজ নিয়ে আমরা লাউঞ্জে অপেক্ষা করছি। আমার মাথার যন্ত্রণাটা ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে। বুঝলাম, না ঘুমোনো দুটো রাতের অত্যাচার এখনও জানান দিচ্ছে। ভালো থাকার অভিনয় করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, তবু কখনো অভিযোগ করিনি। আজ সময়টা হঠাৎ করে যেন থমকে গেলো। নিজের মোবাইল ফোনেই নিজেকে বারবার ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি; অপেক্ষা শুধু একটারই -- একটা ম্যাসেজ বা ফোনকলের।
হঠাৎ ফোনে মেসেজ রিঙ্গারটা বেজে উঠলো। "সন্দীপ!" ভরসা পেলাম, হয়তো সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে, সব অভিমানের মান ভেঙ্গেছে। আনন্দে আমার চোখ আরও ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল। আমি তাড়াতাড়ি মেসেজ টা খুলে দেখবার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে পড়লাম।
মেসেজে লেখা --
"কলকাতায় পৌঁছে আমার সাথে যোগাযোগ করার আর কোনও চেষ্টা কোরো না; দু'ঘন্টা পর আমার এই নম্বরটা বদলে যাবে। ভালো থেকো।"
আমি তখনও ঐ দুটো শব্দেই আটকে রইলাম, ''ভালো থেকো!''

No comments:
Post a Comment